President

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছে হাজারো জনতা।বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম ডন নিউজ জানায়, চলতি মাসের ৪ তারিখ তার বাসা রোড কট এলাকা থেকে একটু দূরে একটি আরবি শিক্ষা কেন্দ্র থেকে বাসায় আসার পথে জয়নাব নিখোঁজ হন। এই সময় জয়নাবের মা-বাবা ওমরাহ করতে সৌদি আরবে ছিলেন। জয়নাব তার খালার বাড়িতে ছিল। গতকাল বুধবার জয়নাবের মা-বাবা পাকিস্তানে ফিরে আসেন।

নিখোঁজের পর জয়নবের আত্মীয়রাই পরে একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেন, যেখানে সাত বছর বয়সী শিশুটিকে এক ব্যক্তির হাত ধরে হেঁটে যেতে দেখা গেছে। ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার শাহবাজ খানের রোডের পাশে একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে জয়নাবের লাশটি উদ্ধার করে একজন কনস্টেবল।

পুলিশ জানায়, লাশ দেখে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে চার থেকে পাঁচদিন আগে হত্যা করা হয়েছে।

৫ জানুয়ারি জয়নাবের খালা-খালু থানায় এফআইআর রুজু করেন। জয়নাবের লাশ পাওয়ার পর ৯ জানুয়ারি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মানুষ। আজ বৃহস্পতিবারও কাসুর শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঞ্জাব প্রদেশের আইনমন্ত্রী নাঈম সাফদারের বাসভবনে ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের থামাতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

তাদের অভিযোগ, শহরটিতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে গেলেও প্রশাসন কোনো ভূমিকা রাখছে না। এমনকি জয়নাবের ঘটনায়ও প্রশাসন গড়িমসি করে। গত বুধবার শুরু হওয়া বিক্ষোভে জনতার ওপর পুলিশ গুলি চালালে দুজন নিহত হয়।

পুলিশ বলছে, কাসুরে গত দুই বছরে এ রকম ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের হত্যার ঘটনায় একজনকেই সন্দেহ করছে পুলিশ। এ পর্যন্ত ৯০ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জয়নাব হত্যার ঘটনা ব্যাপক সাড়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট তারকারা।

লাহোরের ২০ কিলোমিটার দূরের শহর কাসুরে জয়নবের মৃত্যু পাকিস্তানজুড়েও তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর জয়নাব’ লিখে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র তারকা ও রাজনীতিকরা। তারা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

১১ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৫১ পি.এম