President

হাকিকুল ইসলাম খোকন: প্রতি বছরের ন্যায় এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উদযাপন করেছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। গত ২৬ মার্চ রবিবার সকাল ৯টায় স্থায়ী মিশনে জাতীয় সঙ্গীতের সূর-মূর্ছনার মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর সকাল ১০টায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এবং নিউইর্য়কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও কংগ্রেস অব বাংলাদেশি আমেরিকান ইনক্ যৌথভাবে স্থানীয় এলম্হার্স্ট হাসপাতালে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি আয়োজন করে। মিশন ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তা-কর্মচারি ছাড়াও স্থানীয় প্রবাসী বাঙালিগণ এই কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় রক্ত দান করেন।

বেলা ২টায় স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে পূনরায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু করা হয় মূল আলোচনা অনুষ্ঠান। এসময় সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনের স্মরণে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধাগণ জাতির পিতার প্রকৃতিতে সম্মিলিতভাবে সশ্রদ্ধ সালাম প্রদর্শন করেন। মূল আলোচনার আগে দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা পর্বের শুরুতে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।

স্বাগত ভাষণে স্থায়ী প্রতিনিধি স্বাধীনতার জন্য বাঙালির সূদীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, “জাতির পিতার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে বিজয় অর্জন করেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পররাষ্ট্র নীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব-কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ ধারণ করেই পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি”।

জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে মর্মে উল্লেখ করে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রদূত বলেন, “আপনারা রেমিটেন্স পাঠানোর মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন। প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশী বিদেশের মাটিতে দেশের শুভেচ্ছা দূত। আপনারা আপনাদের কাজ ও ব্যবহারের মাধ্যমে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখবেন। জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ায় আরও ভূমিকা রাখবেন – এটাই আমার প্রত্যাশা”।

নিউইয়র্কস্থ কনস্যুলেট জেনারেলের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান এনডিসি বলেন, “একাত্তরের শহীদদের রক্ত আর মা-বোনের সম্ভ্রম বৃথা যায়নি। বাংলাদেশ আজ শুধু আঞ্চলিক পর্যায়েই নয়, বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাড়িয়েছে; আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে”। তিনি প্রবাসী কমিউনিটিকে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানান।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আসুন দলমত নির্বিশেষে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক একযোগে কাজ করে যাই – মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার”।

অনুষ্ঠানটিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতি কর্মী, নাট্যকার, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতা-কর্মীসহ জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটিতে স্বেচ্ছায় রক্তদানকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ১৭:৫৬ পি.এম