President

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে থাকা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রায়ে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ কেঁদেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। এছাড়া খালেদা জিয়াকে রাজনীতির বাহিরে রাখতে সরকার অপচেষ্টা করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

গতকাল রবিবার রাতে বেসরকারি টিভি নিউজ টোয়েন্টিফোরে আয়োজিত “রাজনীতি কোন পথে” শীর্ষক টক শোতে এসব কথা বলেন তিনি। এছাড়া টক শোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন এবং জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজও উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির নেতা নিতাই রায় বলেন, ‘দেশের সব মানুষ রাজনীতি করে না। ৩০ শতাংশ জনগণ বিএনপি বা আ.লীগের ৩০ শতাংশ সমর্থক। বাকি যে সাধারণ মানুষ রয়েছে তাদের সমন্বয়ে এমনিতেই ৭০ শতাংশ হয়ে যায়। তারা সবাই বেগম জিয়ার রায়কে নিয়ে কেঁদেছে। কারণ তারা জানে তিনি এতিমদের টাকা মেরে খায়নি।’

খালেদা জিয়াকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে নিতাই রায় বলেন, ‘এই মামলার টাকাটা প্রাইভেট মানি। অর্থাৎ সৌদি আরব থেকে যে টাকাটা দিয়েছে সেটি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের জন্য দেয়নি বা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের জন্যও দেয়নি। এমন কোনো রেকর্ড বাদীপক্ষ দেখাতে পারেনি। আর প্রাইভেট মানির জন্য এই মোকদ্দমা হতে পারে না।’

এ সময় আ স ম ফিরোজ প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী কি প্রাইভেট টাকা গ্রহণ করতে পারে আর এই টাকাটা কে পাঠিয়েছে? তাহলে ওই ব্যক্তি কি নাশকতার জন্য এই টাকাটি পাঠিয়েছেন?

জবাবে নিতাই রায় বলেন, ‘বেগম জিয়াকে সাজা দেয়ার মতো কোর্টে তার সংশ্লিষ্ট কোনো ধরণের মেটেরিয়ালস ছিল না। এই সাজাটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে দেয়া হয়েছে। আমাদের দেশে বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নাই।’

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার রায় ঘোষণা হয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি। রায়ের দিনটিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় যানবাহন কম চলা এবং ঢাকাসহ সারাদেশের অনেক জেলায় বিজিবি মোতায়েনের মতো প্রস্তুতিকে পূর্বপরিকল্পিত হিসেবে দেখছেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, দেখে মনে হচ্ছিল যেনো একজন ভয়ঙ্কর ব্যক্তির ফাঁসি হচ্ছে। দেশের আইনের প্রক্রিয়ায় এটা হওয়া উচিত হয়নি।

প্রতিহিংসাপরায়ণ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে খালেদার বিরুদ্ধে রায়টি দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘আ.লীগে প্রধান থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই মামলার শুরু থেকেই যেভাবে বলা শুরু করেছে যে “এতিমদের টাকা মেরেছে, এতিমদের টাকা চুরি করেছে”। রায়ের আগেই বলা হচ্ছিল যে আর কয়দিন, এইযে উনি জেলখানায় যাবেন।’

এছাড়া খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূত ও আ.লীগের অন্যতম শরিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও আগে থেকেই যেভাবে বলছিলেন, তারও সামলোচনা করেন নিতাই চৌধুরী।

খালেদা জিয়াকে ‘নির্জন’ কারাগারে রাখার বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। বলেন, ‘একটি পরিত্যক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত, বসবাসের অযোগ্য একটি বাড়িতে বেগম জিয়াকে আপনারা নিয়ে রাখলেন! এতো প্রতিহিংসা?’

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা ৩৬টির মামলা দ্রুততার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে দাবি করে বিএনপির নেতা নিতাই বলেন, ‘সরকারের এই আচরণের পেছনে মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়া যেনো অংশগ্রহণ করতে না পারেন তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা। এছাড়া তাকে রাজনীতির বাইরে রাখা যায় কি না এর একটি অপচেষ্টা করছে সরকার।’

খালেদা জিয়ার রায়ের পরে রাজনীতি কোন পথে যাচ্ছে এমন প্রশ্ন রাখেন উপস্থাপক। জবাবে নিতাই চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে যে ৩৬টি মামলা রয়েছে এগুলো অবিশ্বাস্যভাবে খুব দ্রুততার সঙ্গেই পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সরকারের এই বিহেভিয়ারের পেছনে মূল উদ্দেশ্যটা হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বেগম জিয়া যেনো অংশগ্রহণ করতে না পারেন তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা এবং আল্টিমেটলি তাকে রাজনীতির বাইরে রাখা যায় কি না এর একটি অপচেষ্টা করছে সরকার।’

১২ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৫:৩৭ পি.এম