President

প্রথমে মাশরাফি বিন মুর্তজা, তাঁর সঙ্গে মুশফিকুর রহিম। পেছনে দলের অন্য সদস্যরা। খানিক আগেই সবাইকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। হাতে পুষ্পগুচ্ছ, মুখে প্রাপ্তির আনন্দ—কোনো সিরিজ না হেরে শ্রীলঙ্কা থেকে ৪০ দিনের সফর শেষে বাংলাদেশ ফিরেছে রাশি রাশি সুখস্মৃতি নিয়ে।
সতীর্থরা চলে গেলেন বাক্স-পেটরা বুঝে নিতে। দুই অধিনায়ককে আসতে হলো সংবাদমাধ্যমের সামনে। সাফল্যের বাঁকে বাঁকে কত গল্প থাকে, তা শোনাতে হবে না! শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মুশফিকুর রহিম বিশ্লেষণ করলেন শ্রীলঙ্কা সফর। অনেক আলোচিত ঘটনার জন্ম এ সফরে। মাঠের বাইরে নানা ঘটনা তো আছেই। তবে সফরটাকে মানুষ বেশি মনে রাখবে মাঠের পারফরম্যান্সের কারণেই।
শ্রীলঙ্কার মাটিতে শততম টেস্টে জয়। নিজেদের মাঠে পরাক্রমশালী শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজেও জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। তবে মাশরাফির একটা অতৃপ্তি থেকে গেছে। শ্রীলঙ্কাকে ওয়ানডে সিরিজ জিততে না দিলেও সুযোগ ছিল ট্রফিটা নিজেদের করে নেওয়ার। সেটা হয়নি বলে দারুণ এক সফর শেষেও আফসোস মাশরাফির, ‘এ সফরে আমাদের একটাই অতৃপ্তি, ওয়ানডে সিরিজটা জেতা উচিত ছিল। তবে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কায় এত ভালো খেলেছি। বিশেষ করে টেস্টে পিছিয়ে থেকেও সিরিজ ড্র করেছি। কিন্তু ওয়ানডেতে ২-০ ব্যবধানে জেতা উচিত ছিল।’
এই অতৃপ্তিটুকু বাদ দিলে মাশরাফির চোখে দুর্দান্ত এক সফরই গেছে বাংলাদেশের, ‘টি-টোয়েন্টিতে ওরা কদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা-অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে জিতেছে। তাদের বিপক্ষেই আমরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও শেষ ম্যাচে জিতে সিরিজে ফিরেছি। সব মিলিয়ে ভালো একটা সিরিজ গেছে।’
পরশু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাওয়া জয়ে একটা বৃত্তও ভেঙেছে বাংলাদেশ। ধর্মশালায় গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে পাওয়া জয়টা ছিল টি-টোয়েন্টিতে এর আগে বাংলাদেশের সর্বশেষ আনন্দের স্মৃতি। কিন্তু এরপর টি-টোয়েন্টিতে আর জয়ের দেখা পাচ্ছিলেন না মাশরাফি-তামিমরা! টানা আট ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। ধারাটা সামনেও ধরে রাখতে আত্মবিশ্বাসী মাশরাফি, ‘আমরা টানা আটটি টি-টোয়েন্টি হেরেছি। টি-টোয়েন্টিতে দুই বছর আগের চেয়ে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। হয়তো ছোট ছোট ভুলে হেরেছি। শেষ নয়টা ম্যাচের অন্তত চার-পাঁচটা জেতা উচিত ছিল আমাদের। সামনে টি-টোয়েন্টিতে আমরা আরও ভালো করব, আশা করি। পরের বিশ্বকাপেও ভালো করব, ইনশা আল্লাহ।’
কিন্তু অনাগত সেই সাফল্য মাঠে থেকে দেখা হবে না মাশরাফির। অধিনায়ক জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের হয়ে আর খেলবেন না টি-টোয়েন্টি। মাশরাফির সব ভাবনা এখন ওয়ানডে ঘিরেই, ‘শ্রীলঙ্কায় যে ভুলগুলো হয়েছে, আয়ারল্যান্ড ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব। ওখানে ভিন্ন উইকেটে খেলা হবে। পরিকল্পনা করেই নামতে হবে এবং সেগুলো কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে।’
কিন্তু তাঁর অযুত-নিযুত ভক্তরা যে মানতেই পারছেন না, মাশরাফিকে আর দেখা যাবে না ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে! দেশের নানা প্রান্তে প্রিয় খেলোয়াড়কে ফেরাতে চলছে মিছিল, হচ্ছে মানববন্ধন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে তুমুল হইচই! ভক্তদের এই ভালোবাসায় অভিভূত মাশরাফি, ‘প্রথমত ধন্যবাদ, যারা আমাকে নিয়ে এত উদ্বিগ্ন। তাদের এই ভালোবাসার কারণে আমার ক্যারিয়ারটা এত লম্বা হয়েছে। দুঃসময়ে তারা আমার পাশে ছিল। আর আমি তো এখনো ওয়ানডে খেলছি। মাঠে দেখা হবে। মজা হবে ওখানেই।’

০৮ এপ্রিল, ২০১৭ ২২:৫৯ পি.এম