President

রবিচন্দ্রন অশ্বিন: আপনি যদি এক শ ক্রিকেটারকে জিজ্ঞেস করেন, দেখবেন সবাই খেলাটিকে ভালোবাসে বলেই ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছিল। ৯০ শতাংশ বলবে, কারণ তারা যা করে সেটা ওদের পছন্দ। অন্য ৯ শতাংশ মহাতারকা ও তাদের অর্জনের মতো কিছু করতে চায়। আর আমি বলি, এ খেলাটাই আমার একমাত্র ভালোবাসা। আমাকে যদি আগামীকাল জাতীয় দল ছেড়ে দিয়ে চেন্নাইয়ে ক্লাব ক্রিকেট খেলতে বলে, তবু খুশি থাকব। আমি খেলাটা ভালোবাসি এবং এ জন্যই সব সময় এটা দেখি। আপনারা (সাংবাদিকেরা) যদি প্রতিদিন রাত আটটায় একটা খেলা দেখে সেটা নিয়ে প্রতিবেদন লিখতে পারেন, তবে আমার সেটা করতে দোষ কী? (হাসি)।

l আপনি তো পড়ুয়া লোক। টিভি সিরিজও পছন্দ করেন। আপনার পছন্দের সিরিজগুলো কী কী?

অশ্বিন: ইদানীং আমি গেম অব থ্রোনস দেখছি। একটু দেরিতে শুরু করেছি যদিও। আমার মনে হচ্ছে অনেক আগেই দেখা শুরু করা উচিত ছিল। আমার স্ত্রী অনেক দিন ধরেই বলছিল এটা দেখার জন্য। কিন্তু আমি এড়িয়ে যাচ্ছিলাম, কারণ এটায় অনেক বেশি নগ্নতা। কিন্তু একবার দেখা শুরু করতেই, মনে হলো এ সিরিজটা বোধ হয় শুধু আমার জন্যই বানানো হয়েছে! আমার প্রিয় চরিত্র হলো সার্সেই ও টাইরিয়ন (লেনিস্টার)। হাউস অব কার্ডও আরেকটি সিরিজ, যেটা আমি ভালোবাসি।

l ভারতে তো বোলারদের চেয়ে ব্যাটসম্যানদেরই অধিনায়ক হিসেবে বেশি পছন্দ করা হয়?

অশ্বিন: বোলারদের অধিনায়ক না করার পেছনের যুক্তিটা আমি বুঝি। হয়তো সবাই ভয় পায়, অধিনায়ক বেশি বল করবে অথবা কম বল করবে। আমার মতে অধিনায়কত্ব ব্যাপারটাকে অতিমূল্যায়ন করা হয়, মাঝেমধ্যে অবমূল্যায়নও। যখনই মাইক হাসির বিপক্ষে বল করতাম, আমার ভয় লাগত এই বুঝি এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে মারবে! কোনো অধিনায়কের পক্ষে এ ব্যাপারটা বোঝা সম্ভব না। টি-টোয়েন্টিতে একজন ফিল্ডার ৩০ গজের ভেতর থাকুক, আরেকজন সীমানায়—এটাই আমি চাইতাম। কিন্তু কোনো অধিনায়ককে এটা বোঝানো কঠিন, কারণ এটা স্বাভাবিক নয়। অধিনায়কের অর্ধেক কাজ বোলারের ভয়টা বোঝা, বাকি অর্ধেক সেটার ব্যবস্থা নেওয়া।

আমি তো বুঝি না, শুধু একজন কেন অধিনায়ক হবেন। এ কাজটা তো ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। টেস্টের চেয়ে সীমিত ওভারেই একজন বোলার-অধিনায়ক বেশি অবদান রাখতে পারে।

l ধোনি ও বিরাটের অধিনায়কত্ব কীভাবে তুলনা করবেন?

অশ্বিন: এটা খুবই শক্তিক্ষয়ী ও প্রশংসাহীন কাজ। পাঁচ বছর অধিনায়কত্ব করার পর সবারই উচিত স্বেচ্ছা অবসরে যাওয়া (হাসি)। এটা তো কেবল ব্লেজার পরা ও টস করতে যাওয়াই না। আপনাকে সংবাদ সম্মেলন করতে হয়, নির্বাচকদের সভা, মূল একাদশ ঠিক করা, যারা বাদ পড়ল তাদের বোঝানো। মহেন্দ্র সিং ধোনির উদ্দেশে টুপি খোলা শ্রদ্ধা আমার। সে দারুণ করেছে, বিশেষ করে এমন এক দেশে, যেখানে অনেক দিন ধরেই অনেকে তার পতন চেয়ে আসছে। সে দলকে অনেক চাপ থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে।

ধোনির অধিনায়কত্ব নিয়ে আমার সবার আগে যেটির কথা মনে হয়, সেটা হলো পরিণতিবোধ। বিরাট এখন দায়িত্ব নিয়েছে এবং সে পুরোপুরি ভিন্ন একটা মানুষ। সে লড়াই পছন্দ করে, সবকিছুর কেন্দ্রে থাকতে চায়, ভীষণ আক্রমণাত্মক। মাঝেমধ্যে সে এতটাই আক্রমণাত্মক হয়ে যায় যে, আমার ভয় লাগে। আমি চিন্তায় পড়ে যাই, এই ফিল্ডারকে রাখব না সরাব (হাসি)। বিরাটের ব্যাপারটা হলো, আপনাকে কখনো ভাবতেই হয় না এখানে যে ফিল্ডারটা রাখা হলো, সেটা আক্রমণের জন্যই কি না। গত কয়েক বছরে ক্রিকেটার ও মানুষ হিসেবে ওর অনেক উন্নতি হয়েছে। সে সম্ভবত প্রজন্ম বদলে দেওয়া একজন!

l আপনি যদি অধিনায়ক হন, বিরাট ও ধোনির কাছ থেকে কোনগুলো নিতে চাইবেন?

অশ্বিন: আমি কাউকে নকল করতে চাই না। আমি দায়বদ্ধতা ও যোগাযোগে বিশ্বাস করি। যেটিকে ঠিক মনে করব, সেটিই করব। যে সিদ্ধান্তই নেই, সেটা যুক্তি দেখিয়েই নেব। আমি সৎ ও মুক্ত মনোভাবের হব। তবে জীবনের এই পর্যায়ে এসব নিয়ে ভাবার মতো যথেষ্ট শক্তি আমার অবশিষ্ট আছে বলে মনে হয় না।

l এক সাক্ষাৎকারে যে একবার বলেছিলেন, ‘আমি পদবিহীন অধিনায়ক’। একটু বিস্তারিত বলবেন?

অশ্বিন: এসব কথার অনেক সময় একটু ভুল ব্যাখ্যা হয়। কারণ ‘পদবি ছাড়া নেতৃত্ব দেওয়া’ আসলে আমার এমবিএর বইয়ের একটা অধ্যায় (হাসি)। ‘পদবি ছাড়া নেতৃত্ব দেওয়া’ বলতে বোঝায় নিজের কাজে নেতৃত্ব দেওয়া, বোলিংয়ে নিজের ফিল্ডিং সাজানো, আশপাশের আবহটা নিয়ন্ত্রণ করা।

l আপনি তো ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত ৫০, ১০০, ১৫০ ও ২০০ উইকেট পেয়েছেন।

অশ্বিন: আমি নিশ্চিত অনিল ভাই এ ব্যাপারে খুবই অখুশি (হেসে)।

l কিন্তু আপনি কি অনিল কুম্বলের রেকর্ডের (ভারতের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে বেশি ৬১৯ উইকেট) পেছনে ছুটছেন না?

অশ্বিন: আমি জানি না (হাসি)। যদি কখনো কাছাকাছি যেতে পারি, আমার মনে হয় সে টেস্টেই অবসর নিয়ে নেব। আর এটা শুধু বলার জন্যই বলছি না। এটা সম্মান থেকেই বলছি। আমার ধারণা, আমাদের দুজনের ক্যারিয়ারের অনেক মিল। আমি নিয়মিত সমালোচনা শুনেছি এবং সেটাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়েছি। এটা তিনিও দারুণভাবে করতেন।

০৯ এপ্রিল, ২০১৭ ২৩:২৪ পি.এম